মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল এবং ওই পদে পাওয়া সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে একজন প্রবীণ চিকিৎসক ও শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাবেক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ।
তারা বলেছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলেও তার দায় একজন ইমেরিটাস অধ্যাপকের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি থাকলেও একজন গুণী শিক্ষক ও চিকিৎসকের সম্মান ক্ষুণ্ন না করেই বিষয়টির সমাধান করা যেত।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত ছিল। এ কারণে তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া পোস্টে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর দীর্ঘ চিকিৎসাসেবা, শিক্ষকতা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। ডা. আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অধিকাংশ পোস্টেই তাকে ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন চিকিৎসক’, ‘গরিবের ডাক্তার’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং তার পেশাগত সততা ও মানবিকতার জন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, জাতীয় অধ্যাপক কোনো চাকরি নয়; এটি একজন শিক্ষকের সারাজীবনের গবেষণা, শিক্ষা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি। ফলে এমন সম্মান প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, এসব সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রেও যেমন যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত, তেমনি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি থাকলেও তা সংশোধনের সময় একজন গুণী মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। দেশের লাখো মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একজন চিকিৎসককে এভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা জাতির জন্য সুখকর বার্তা নয়।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তার ভাতা ফেরতের নির্দেশকে ঘিরে। ভাতা ফেরতের নিদের্শের সমালোচনা করে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলেছেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যে সম্মান ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গ্রহণ করেছেন। এখন সেই অর্থ ফেরত চাওয়া আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বলেছেন, কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরে বাতিল হলেও এরই মধ্যে প্রদত্ত সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা ফেরত চাওয়ার নিচু মানসিকতার পরিচয়। এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।
বহু চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত তার পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার কারণে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান তার চিকিৎসক হিসেবে যাকে বেছে নেন, সেটি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত আস্থার বিষয় বলেই তারা মনে করেন। একজন চিকিৎসক ফেসবুকে লেখেন, ‘ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ স্যারের মতো একজন মানুষের সারাজীবনের অবদানকে মূল্যায়ন না করে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।’
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং বিধিবহির্ভূতভাবে গৃহীত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংশোধনের অংশ। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাদের মতে, প্রশাসনিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন বরেণ্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিকল্প পথও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খোলা ছিল। তাদের মতে, গুণী মানুষকে সম্মান জানানো শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; গুণীজনদের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
গুণী মানুষের মর্যাদাহারি এবং গরিবের ডাক্তারকে অসম্মান হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন কম টাকায় রোগী দেখা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সহজপ্রাপ্য শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অনেকে লিখেছেন, চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং মানবিক আচরণের কারণে তিনি দেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকে পরিণত হয়েছেন। তার মতো এমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় তার সারাজীবনের অবদানকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন: সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, বিষয়টি এখন আর শুধু একজন অধ্যাপকের নিয়োগ বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের গুণী মানুষদের মূল্যায়ন করে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় অধ্যাপক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার মতো সম্মান একজন শিক্ষক জীবনের দীর্ঘ সাধনা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জন করেন। তখন তার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জন্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তাই এসব পদে নিয়োগ কিংবা পদ বাতিলের ক্ষেত্রে দল, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একজন শিক্ষকের সামগ্রিক অবদানই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, এটি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত উনার পেশাগত উৎকর্ষতার কারণে। দলীয় পরিচয়ে নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে অসম্মান করা দেশের জন্য অসম্মান। দলীয় প্রতিহিংসার কারণে উনার নিয়োগ বাতিল করলেও উত্তোলিত অর্থ ফেরত চাওয়া প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থি।
আরেকজন লিখেছেন, জানি না, কে বা কার পরামর্শে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তিনি সারা জীবন মানুষের সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অর্থ-বিত্ত বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—কোনোটিই কখনো তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠেনি। একজন অধ্যাপক হয়েও তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থেকেছেন। তিনি রোগী দেখার জন্য কত সামান্য ফি নিতেন, কত অসহায় মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা দিয়েছেন—এসব দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। এমন একজন সহজ সরল সাদা মনের মানব হিতৈশী দেশপ্রেমিক ডাক্তারকে অসম্মানিত করে আমরা খুবই ছোট মনের পরিচয় দিলাম।
এক চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে দলমতের ঊর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা ব্যক্তিত্ব। বহু অধ্যাপকের শিক্ষক। তার এমিরেটাস অধ্যাপক পদ বাতিলের বিষয়টি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল বলে মনে হয়। এই অনর্থক সিদ্ধান্তের কারণে বিএমইউ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এক গণমাধ্যমকর্মী লিখেছেন, অসম্ভব জ্ঞানী (মেডিকেল বিষয়ে), গুণী, বিনয়ী এবং সত্যিকারের সেবার ব্রত আছে তার মধ্যে। তার চেম্বারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত নামে পৃথক প্রেসক্রিপশন হতো বলে জানা নেই! সেই প্রেসক্রিপশনও আবার ৩০০ টাকার বিনিময়ে! গুণী মানুষ ‘কদর’ পায় না এদেশে। আগেও পায়নি, এখনো না এবং নিশ্চিত করে বলতে পারি দলীয় নষ্টামির এই প্র্যাকটিস চলতে থাকবে। সে কারণেই যোগ্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচে। কী বা করবে! এ বি এম আব্দুল্লাহ, কষ্ট নেবেন না। নষ্ট দেশের ভ্রষ্ট আর অযোগ্যরা, তাদের চারপাশে কেবল সমমানের মানুষগুলোকেই দেখতে চায়। সরি, স্যার। ভালো থাকবেন।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম: অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা জগতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে দেশের শত শত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন।
চিকিৎসাসেবা, গবেষণা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে একুশে পদক, ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ, ইউজিসি প্রফেসরশিপ, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মেডিসিনের আন্তর্জাতিক পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস প্রিন্সিপলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ২৪তম সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।
করোনা মহামারির সময় গণমাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসীত হয়েছিলেন। কম খরেচ রোগী দেখা ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে তিন বছরের জন্য বিএসএমএমইউর ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিনিই প্রথম এই সম্মান অর্জন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই স্বীকৃতি তাকে শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে আরও বেশি অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বঙ্গভবনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দেরি হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরে কোনো সংশয় নেই বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্র বলেছে, পদত্যাগ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বপালনরত অবস্থায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।
তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে তিনি বলেন, “আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসেছে, আমরা সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।”
সালমান শাহ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিন ধার্য ছিল। তবে আজ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা নতুন তারিখ দেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আটবার পেছাল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা–জল্পনা আছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান তাঁকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করেন। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।
প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্ত বাহিনীর আত্মপ্রকাশ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচন ভবন
স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং আগস্টে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশাকরি, আগামী অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারবো।’
আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কয়টি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কম সময়ে বেশি নির্বাচন যাতে করা যায় সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি পৌরসভা বা উপজেলা কোনটা আগে আসতে পারে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় নিয়েই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠিত হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে হয়তো স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে সেটা শেষ করা হবে। যেমন-ইউনিয়ন পরিষদ যদি ধরি তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা যদি ধরি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন যদি ধরি সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা হবে। এর মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে যদি আদালতের কোন রায় বা কোনো নির্দেশনা থাকে- সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো চিন্তাভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।’
‘প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না’- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এ বিষয়ে এখনো কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। এটা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অতএব সেই নির্বাচন সফলতার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছিল, সেগুলো এই নির্বাচনেও নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে কমিশনের। নির্বাচন কমিশন মনে করে, রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে। এটা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আচরণবিধি নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং এটা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের যে আইন রয়েছে, এই আইনটা একবারে দুর্বল নয়। এ আইন দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব। তবে অবজারভেশনের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আইন সংশোধন হয়, তাহলে সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি আইন সংশোধন না হয় তাহলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সালে চালু করা হয়েছিল জনপ্রশাসন পদক। ২০২২ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনপ্রশাসন পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ রাখা হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পদকপ্রাপ্তরা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় আমলাদের নতুন করে পদক প্রদান নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি।
বর্তমান বাস্তবতায় এই নাম বহাল রেখে পদক দিলে অথবা পদক বাতিল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে- এমন আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত দুই বছর ধরে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে না।
এখন এই পদকের নাম পরিবর্তন করে আবার চালু, পদকপ্রাপ্তদের পদক বাতিল কিংবা নীতিমালা সংশোধন হলে নতুন কী যুক্ত হবে- এসব নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন জনপ্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ নীতিমালা বাতিল বা পরিবর্তন হচ্ছে না, সে পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। তবে দিবসটি কীভাবে পালন করা হবে, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।
দিবস আছে, অনুষ্ঠান নেই
প্রতিবছর ২৩ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো অনুষ্ঠান করছে না।
এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদকের নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা। নাম পরিবর্তন না করে পদক দিলে সমালোচনা হতে পারে, আবার নাম পরিবর্তন করলেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হবে। তাই আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২০১৭ সালে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে এমন পদক প্রদান ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নতর জনসেবা দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তাই নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা দরকার।
২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০৪ জন ব্যক্তি ও ১৫টি প্রতিষ্ঠান জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন ৫৬ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত অবদানের জন্য পেয়েছেন দুই লাখ টাকা এবং দলগত অবদানে পাঁচ লাখ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট।
বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, নামের কারণে এ পদক আমার চাকরিজীবনে একটি কলঙ্কের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। অথচ আগের নাম থাকলে এই পদকের জন্য আজ সম্মানের স্থানে থাকতাম।
বিপিএএ ব্যবহার করছেন অনেকে
নীতিমালা বদল না হওয়ায় পদকের উপাধি বিপিএএ (বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক) ব্যবহার করছেন অনেক কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম রাব্বী নামের সঙ্গে লিখেছেন বিপিএএ।
একইভাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ লিখেছেন। এভাবে অনেক কর্মকর্তা উপাধি ব্যবহার করছেন।
গোলাম রাব্বী বলেন, সরকার নীতিমালা সংশোধন করেনি। নীতিমালা যতক্ষণ বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ উপাধি থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, নামের সঙ্গে কেউ কেউ বিপিএএ ব্যবহার করছেন- এটা আমি লক্ষ্য করিনি। শিগগিরই আমরা এই বিষয়টা দেখব।