সরোয়ার আলমগীর
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে জয়ী বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ‘বৈধ’ বলে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে তার ফল প্রকাশ ও শপথ নিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, “সরোয়ার আলমগীর ফটিকছড়ি-২ থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ইলেকশনে দাঁড়ানোর জন্য যে প্রার্থিতা দিয়েছিল, সেটা ইলেকশন কমিশন তার নমিনেশন ক্যানসেল করে দিয়েছিল এবং সেটা নিয়ে রিট ফাইল হয়েছিল। আজকে রিটের শুনানি হয়েছে।
“শুনানির পর কোর্ট বলেছেন যে সারোয়ার আলমগীর প্রথমত ডিফল্টার নয়। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন যে আপিল অ্যালাউ করে যে ক্যান্ডিডেচার রিজেক্ট করে দিয়েছিল, সেটা অবৈধ ছিল এবং কোরাম নন-জুডিস ছিল এবং ম্যালিস ইন ল ছিল।”
আহসানুল করিম বলেন, “সুতরাং সারোয়ার আলমগীর বৈধ ক্যান্ডিডেট এবং তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচন করে তিনি ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এবং যেহেতু এই রিট পিটিশনে রুল অ্যাবসোলিউট হয়েছে, এখন নির্বাচন কমিশন তার নাম গেজেটভুক্ত করবেন এবং অন্যান্য যে ফরমালিটিজ আছে, ওথ নেয়া, শপথ গ্রহণ করা, সেগুলো ফরমালিটিজ গ্রহণ করে তিনি সংসদে যাবেন।”
একই পক্ষের আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এই রায়ের ফলে সারোয়ার আলমগীরের গেজেট নোটিফিকেশনে, যেহেতু সে নির্বাচনে জিতে গেছে, গেজেট নোটিফিকেশনে বাধা রইল না, শপথ নিতেও কোনো বাধা রইল না।”
সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে তা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু এ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে ইসিতে আপিল দায়ের করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন।
ওই অভিযোগের শুনানি নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করে। অর্থাৎ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।
ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসি সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে।
আদেশে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফল প্রকাশ করা যাবে না।
ভোটে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে সরোয়ার আলমগীরের শপথ নেওয়াও আটকে থাকে।
এ কারণে ফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন সরোয়ার। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।
রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “নির্বাচন কমিশনে যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেবে, সেদিন ইস্যু ছিল যে সে ঋণখেলাপি ছিল কি ছিল না। সেখানে সেদিন কিন্তু ঋণখেলাপি ছিল না, কোনো কথা নাই এবং রিটার্নিং অফিসার অ্যালাউ করছে।
“সাবসিকুয়েন্টলি আপিল করছে জামায়াতে ইসলামীর ক্যান্ডিডেট। সেখানেও কিন্তু ঋণখেলাপিই বলে নাই, এনি জেনারেল কথা বলছে। এরপরে প্রায় ২০ দিন পরে এসে একটা হাই কোর্টের, সুপ্রিম কোর্টের একটা ডকুমেন্ট দেখাল। সাবসিকুয়েন্ট ডকুমেন্ট তো হবে না।
“এইটা দেখেই কিন্তু ইলেকশন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিল। তার এগেইনেস্টে রিট করা হয়েছিল। তো সুতরাং সাবসিকুয়েন্টলি কোনো কাগজ ইলেকশন কমিশন নিতে পারে না, নজরে নিতে পারে না, আমলে নিতে পারে না।”
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এইটাই সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশন ইলিগ্যাল ঘোষণা করেছে ইলেকশন কমিশনের সাবসিকুয়েন্ট রায়টা। এতে আরো প্রমাণিত হল যে, সে ঋণখেলাপি ছিল না, বৈধ ক্যান্ডিডেট ছিল এবং বিএনপির ক্যান্ডিডেট হিসেবে প্রায় ৭০ হাজার ভোটে জিতেছে।”
হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন জানিয়ে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “হাই কোর্ট ডিভিশন আজকে নিষ্পত্তি করেছেন, রায় দিয়েছেন, রায় দিয়ে তারা ঘোষণা করেছেন যে জনাব সরোয়ার আলমগীরের নমিনেশন বৈধ ছিল। অর্থাৎ যেদিন তিনি নমিনেশন দাখিল করেছেন, সেই দিনে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।"
আইনগত যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা আর্গুমেন্ট করেছি। স্ক্রুটিনির দিনটা এখানে প্রাসঙ্গিক দিন নয়। নমিনেশন পেপার সাবমিট করার দিনটা হলো প্রাসঙ্গিক দিন। আদালতকে দেখতে হবে কোনোদিন তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন, এটা কি নমিনেশন পেপার দাখিলের দিন নাকি স্ক্রুটিনির দিন?
“আমরা বলেছি দাখিলের দিন, আইনেও আছে দাখিলের দিন। তারপরেও আদালত অ্যাবসোলিউট করেছেন।”
শপথের বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত কোনো আদেশ তো বের হয় নাই। আজকে মৌখিক রায় হয়েছে। একটি লিখিত রায় বের হবে। লিখিত রায়ের পরে প্রশ্ন দাঁড়াবে, ইলেকশন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে।
“লিখিত রায় বের হলে অবশ্যই আমরা আপিল দায়ের করব উচ্চ আদালতে। এ ব্যাপারটি আপনারা জানতে পারবেন।”
সুপ্রিম কোর্ট
ছবি : সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।
প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন জানায়, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফর
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে আজ হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাইকোর্ট
নারী লাশের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছেন।
রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। এর আগে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে একজন করে নারী ডোম নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন এ আবেদন করেন।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখা বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটা আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিপূর্বে পুরুষ কর্তৃক বাংলাদেশে মৃত নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনও নারী মারা যায় তাহলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যখন জানতে পারে কোনো পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম করবে তাহলে তা হয় আরও হৃদয়বিদারক। যদি কোনো নারী ডোম তাদের কাজটি করতো তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা একটু সান্ত্বনা পেতো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান যুগে নারীরা সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে কাজ করছে।
এতে আরও বলা হয়, ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় যদি নারী ডোম থাকে তাহলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে। আধুনিক সমাজের নারী রোগীদের বা মরদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।
আবেদনে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগ উঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক এ বিষয়ে নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ২০ নভেম্বর ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে যতন কুমার পালের ভাগ্নে মুন্না ভগত (২০) ডোমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।
এছাড়া এক-দুই জন নয়, ১০০ জন নারীর লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহীওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। সে ১৯৭৬ সালের থেকে ১৯৯২ সালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১০০টি নারী লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়, সবগুলো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মহিলা লাশের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
তবে সে আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় তিনি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্ট
হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৬ হাজার ৩৪০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৬ হাজার ৩১৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ২৩টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ২৬ হাজার ১৫৩টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৬ হাজার ৭৪৭টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ৯০০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সুপ্রিম কোর্ট
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গত ৫ মে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিটি গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত করা হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৮৩-এর বিধি ২(৪) ও বিধি ৩(বি) অনুযায়ী আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে বিধি ৪(১)(জি) অনুযায়ী তাঁকে ১৪ জুলাই থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করা হলো। জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৫ মে যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য জানানো হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানী-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন, তা ছাড়া তিনি ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
ওই বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে অন্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে তিনি (ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া) অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুল, ১৯৮৩-এর ২(৪) ও ৩(বি) বিধি অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ এবং অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।