প্রক্সি ও প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট

কুষ্টিয়ায় নিয়োগ বাণিজ্যের গডফাদার দৌলতপুরের ফয়সাল!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-১

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সিন্ডিকেট পরিচালনা, চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং স্বল্প আয়ের চাকরি করেও বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নানা তথ্য, নথি ও অভিযোগ পেয়েছে প্রতিবেদক দল। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের পৈতৃক বাড়ি কিশোরীনগর এলাকায়, যা দৌলতপুর থানার নিকটে অবস্থিত। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করছেন। তার নিজের চাকরিও প্রক্সির মাধ্যমে নেওয়া। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী পরিবর্তন, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সালের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এক স্ত্রীকেও অন্য একজনের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর কৌশলে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে অন্যের স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 


সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, মেডিকেল কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা, কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ফয়সাল সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। 


অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে জানা যায়। 


অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন ফয়সাল। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্যের তৎকালীন এপিএস আমজাদ হোসেন রাজু ও পিএস হীরণের মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরেও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন শিক্ষককে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রভাবিত করা হয়। বিনিময়ে প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ পুরো প্রক্রিয়ার মূল সমন্বয়ক ছিলেন ফয়সাল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। 


অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফয়সালের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। মেডিকেল কলেজের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ওই সহযোগীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে, যেগুলো পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। 


অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় রাজবাড়ীতে কর্মরত এক ব্যাংক কর্মকর্তার নামে ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রত্যাশীদের রাখা হতো। সেখানে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলেও জানা গেছে। স্বল্প আয়ের সরকারি চাকরি করলেও ফয়সালের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৪২টি দোকান সম্বলিত একটি মার্কেট, একাধিক প্লট, জমি, ফ্ল্যাট এবং নিজ নামে বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ও সম্পত্তি রয়েছে তার। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার ড্রাইভার হিসেবে কিবরিয়া নামের একজন কর্মরত রয়েছেন বলেও জানা গেছে। যার বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে। অভিযোগ রয়েছে, ফয়সাল এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। তার তিন স্ত্রী বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। প্রতিটি স্ত্রীর কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, তার চাকরিজীবনের বয়স প্রায় ১০ বছর এবং মাসিক বেতন আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে এই আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এছাড়া আসন্ন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ কোটিরও বেশি টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ফয়সালের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক চেক, স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তসহ বিভিন্ন নথির কপি প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। 


সাম্প্রতিক কর অঞ্চল নিয়োগ পরীক্ষায় আটক চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায়। তারা ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের চার কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাই শেষে সেসব বিষয় পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা  হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল  আলী হাওলাদারের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 


এজাহারে বলা হয়,  ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।


এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ। 


শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।


বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।



সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।


অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।


শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’


আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’


স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 


বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।


গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।


তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।


পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়। 


গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩১ পিএম

গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। 


আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা। 


হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।


মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া। 


এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। 


এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। 


পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

সর্বশেষ সব খবর